জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় সঞ্চয় পরিকল্পনা, যা নিয়মিত মাসিক জমা দিয়ে মেয়াদ শেষে মিলিয়ন টাকা পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই স্কিমটি জনতা ব্যাংক লিমিটেডের বিশেষ উদ্যোগ, যেখানে ৭% চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে জমা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন মেয়াদ এবং কিস্তির অপশন থাকায় যেকোনো আয়ের মানুষ এতে যোগ দিতে পারেন। শাখায় গিয়ে সহজ নিয়মে হিসাব খোলা যায়, এবং মেয়াদপূর্তিতে কর কেটে অবশিষ্ট টাকা হাতে পান। এই গাইডে স্কিমের সুবিধা, খোলার প্রক্রিয়া, কিস্তি হিসাব এবং বন্ধের নিয়ম বিস্তারিত জানুন—যাতে আপনি সচেতনভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন।
জনতা ব্যাংকের এই স্কিম দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়কে উৎসাহিত করে, যা অবসরকালীন নিরাপত্তা বা বড় খরচের জন্য আদর্শ। নিয়মিত কিস্তি দিয়ে লক্ষাধিক টাকা জমানো সম্ভব হয়ে ওঠে।
Table of Contents
জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিমের মেয়াদ ও কিস্তি
জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিমে মেয়াদ নির্বাচন করে কিস্তি নির্ধারণ করুন। উপলব্ধ মেয়াদ: ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১২ এবং ১৫ বছর। প্রতি মেয়াদে মিলিয়ন টাকা পেতে মাসিক কিস্তি: যথাক্রমে ২৪,৯০০; ১৮,০২০; ১৩,৯০০; ১১,১৬০; ৯,২২০; ৭,৭৬০; ৬,৬৪০; ৫,৭৫০; ৪,৪৩০ এবং ৩,১৪০ টাকা।
সুদের হার ৭% চক্রবৃদ্ধি, যা প্রতি মাসে জমায় যুক্ত হয়। মেয়াদপূর্তিতে উৎসে কর, আবগারী শুল্ক এবং অন্যান্য চার্জ কেটে অবশিষ্ট টাকা প্রদান করা হয়। পুরনো হিসাবের সুদ ও কিস্তি অপরিবর্তিত থাকে। কিস্তি জমা দিন প্রতি মাসের ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে (ব্যাংক খোলা থাকলে)। এতে ছোট জমা দিয়ে বড় লক্ষ্য পূরণ হয়, যেমন ১৫ বছরে মাত্র ৩,১৪০ টাকা মাসিকে মিলিয়ন টাকা। হিসাব স্থানান্তর, পরিচালনা ফি বা SMS চার্জ ফ্রি।
জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিম খোলার নিয়ম
জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিম খোলা যায় যেকোনো শাখায়, প্রতি মাসের ১১-২০ তারিখে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি; আবেদনকারীর দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি; নমিনির এক কপি ছবি (আবেদনকারী সত্যায়িত); সকল কপি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার দিয়ে সত্যায়িত।
প্রাথমিক জমা: নির্বাচিত মেয়াদের প্রথম মাসিক কিস্তি। ফর্মে মেয়াদ ও কিস্তি লেখায় কোনো কাটাকাটি গ্রহণযোগ্য নয়। যুগ্ম নামে বা একই নামে একাধিক হিসাব (অন্য শাখায়ও) খোলা যাবে না। ফর্ম পূরণ করে জমা দিন, হিসাব তাৎক্ষণিক সক্রিয় হয়। এতে নিরাপদ সঞ্চয় শুরু হয়, এবং নমিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
আরও জানতে পারেনঃ জনতা ব্যাংক ডাবল বেনিফিট স্কিম
জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিম মেয়াদপূর্তির সুবিধা
জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিম মেয়াদ শেষে পুরো মিলিয়ন টাকা (সুদসহ) পান, কর্তনের পর। চক্রবৃদ্ধি সুদ জমা দ্রুত বাড়ায়। উদাহরণ: ১০ বছরে ৫,৭৫০ টাকা মাসিকে লক্ষাধিক সুদ যুক্ত হয়। এটি অবসর পরিকল্পনা বা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত। হিসাব পরিচালনায় কোনো অতিরিক্ত ফি নেই, যা সঞ্চয়কে সহজ করে।
জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিম বন্ধ করার নিয়ম
জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিম মেয়াদপূর্বে বন্ধ করতে শাখা প্রধান বরাবর লিখিত আবেদন করুন। মৃত্যুতে নমিনি পান। নিয়ম:
- ১ বছরের আগে: জমা টাকা ফেরত, সুদ ছাড়া (কর কেটে)।
- ১-৩ বছর: ৩% সরল সুদ মাসিক প্রোডাক্টে।
- ৩-৫ বছর: ৪% সরল সুদ।
- ৫-১০ বছর: ৫% সরল সুদ।
- ১০+ বছর: ৬% সরল সুদ।
কোনো সার্ভিস চার্জ নেই (বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মে)। হিসাবায়ন যাচাই করে টাকা পরিশোধ। এতে নমনীয়তা থাকে, কিন্তু পূর্ণ সুবিধা মেয়াদপূর্তিতে।
FAQs
জনতা ব্যাংক মিলিওনিয়ার স্কিমের সুদের হার কত?
৭% চক্রবৃদ্ধি, মেয়াদপূর্তিতে প্রযোজ্য।
কিস্তি কখন জমা দিতে হয়?
প্রতি মাসের ১১-২০ তারিখে।
যুগ্ম হিসাব খোলা যায়?
না, শুধু একক নামে।
আজই নিকটস্থ জনতা ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করুন এবং আপনার স্বপ্নের মিলিয়নের যাত্রা শুরু করুন!





