উত্তরা ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট মানেই নিশ্চিত লাভ আর ঝামেলাহীন সঞ্চয়। বাজারে যখন শেয়ার-সোনা-জমির দাম ওঠানামা করে, তখন এই এফডিআর আপনাকে দেয় শান্তির ঘুম। একবার টাকা রাখলেন, বাকিটা ব্যাংক দেখবে—সুদ জমা হবে, মেয়াদ শেষে পুরো টাকা হাতে পাবেন। একক নামে, দুইজনের নামে, ব্যবসার নামে, এমনকি এনজিও বা ক্লাবের নামেও খোলা যায়।
এই লেখায় জানাবো: কতটা সুদ পাবেন, কতদিন রাখবেন, আগে তুললে কী হবে, লোন পাবেন কি না, কাগজ কী লাগবে—সব। শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনার পকেটে থাকবে একটা রেডিমেড সঞ্চয়-প্ল্যান। চলুন শুরু করি।
উত্তরা ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট: এক নজরে
এটি একটি টাইম ডিপোজিট। টাকা জমা → নির্দিষ্ট সময় বাঁধা → মেয়াদ শেষে মূল+সুদ ফেরত। কোনো লেনদেন নেই, কোনো মেইনটেন্যান্স চার্জ নেই। শুধু বসে বসে সুদ বাড়বে। এককালীন জমা, এককালীন লাভ। উত্তরা ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় সেভিংস ।
কার জন্য সবচেয়ে ভালো?
- যাঁর টাকা ৩ মাস–৫ বছর হাতে রাখতে সমস্যা নেই
- যিনি ব্যাংকের গ্যারান্টি চান
- যাঁর বাচ্চার পড়াশোনা/বিয়ের ফান্ড তৈরি করতে হবে
- যিনি ব্যবসার রিজার্ভ রাখতে চান
- যাঁর বয়স ১৮ পেরিয়েছে এবং বাংলাদেশী নাগরিক
সুদের হার (নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত)
| মেয়াদ | সুদের হার (বার্ষিক) |
|---|---|
| ৩ মাস | ৯.০০% |
| ৬ মাস | ৯.৫০% |
| ১ বছর | ১০.০০% |
| ২ বছর | ১০.২৫% |
| ৩ বছর ও তার বেশি | ১০.৫০% |
দ্রষ্টব্য: সুদের হার পরিবর্তনশীল। শাখায় গিয়ে সর্বশেষ রেট কনফার্ম করুন।
মেয়াদের অপশন
৩ মাস │ ৬ মাস │ ১ বছর │ ২ বছর │ ৩ বছর │ ৫ বছর আপনার প্ল্যান যেমন, মেয়াদ তেমন।
অটো-রিনিউ কীভাবে কাজ করে?
মেয়াদ শেষে আপনি শাখায় না গেলেও এফডিআর নিজে নিজে নতুন মেয়াদে চলে যাবে। সুদসহ মূল টাকা আবার বাঁধা পড়বে—ঝামেলা শূন্য। চাইলে শাখায় গিয়ে বন্ধও করতে পারবেন।
আরও জানতে পারেনঃ উত্তরা ব্যাংক পার্সোনাল লোন
আগে তুললে কী হবে?
প্রি-ম্যাচিউর এনক্যাশমেন্ট আছে। তবে:
- ৩ মাসের আগে তুললে কোনো সুদ নেই
- ৩ মাস পর তুললে সেভিংস রেট (৩.৫০%) পাবেন
- ১ বছর পর তুললে মূল মেয়াদের ১% কম সুদ
লোন নেবেন এফডিআর-এর বিনিময়ে
এফডিআর-এর ৯০% পর্যন্ত লোন। সুদ মাত্র ২% বেশি (অর্থাৎ ১২.৫০%)। জরুরি টাকা লাগলে এফডিআর ভাঙতে হবে না। উত্তরা ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট এভাবে দ্বিগুণ কাজ করে।
কোনো খরচ লাগবে?
- খোলা → ফ্রি
- রিনিউ → ফ্রি
- মেইনটেন্যান্স → ফ্রি
- সরকারি ট্যাক্স/এক্সাইজ ডিউটি → আপনার
খোলার যোগ্যতা ও কাগজপত্র
- বয়স: ১৮+
- নাগরিকত্ব: বাংলাদেশী
- কাগজ: → ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (ইন্ট্রোডিউসার স্বাক্ষরিত) → NID/পাসপোর্ট কপি → ব্যবসা হলে ট্রেড লাইসেন্স/পার্টনারশিপ ডিড → এনজিও হলে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট → ফর্ম (শাখায় পাবেন)
খোলার ধাপগুলো
১. শাখায় যান ২. ফর্ম + কাগজ জমা ৩. টাকা জমা (ক্যাশ/ট্রান্সফার) ৪. এফডিআর রিসিপ্ট হাতে পান ৫. মোবাইলে SMS এলার্ট
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
টাকার লিমিট আছে?
না
অনলাইনে খুলতে পারি?
এখনও শাখায় যেতে হবে, তবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং থেকে টাকা ট্রান্সফার করা যায়।
সুদ কখন পাব?
মেয়াদ শেষে মূলের সাথে অথবা মাসিক/ত্রৈমাসিক অ্যাকাউন্টে।
যোগাযোগ
- হেল্পলাইন: ১৬২৬৮
- ইমেইল: [email protected]
- ওয়েব: www.uttarabank-bd.com/fdr
- ২৫০+ শাখায় স্বাগতম
শেষ কথা
উত্তরা ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট মানে টাকা ঘুমাক, আপনি হাসুন। কোনো ঝুঁকি নেই, কোনো চিন্তা নেই। আজই ১৫ মিনিট বের করুন, শাখায় যান, এক কাপ চা খান, আর এফডিআর রিসিপ্ট পকেটে ভরে বেরোন। আপনার ভবিষ্যৎ এখনই শুরু হবে। উত্তরা ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট আপনার পাশে।



